কেন ফোনই যথেষ্ট
আজকালকার ফোনের ক্যামেরা অনেক ভালো, বিশেষ করে প্রাকৃতিক আলোয়। তাছাড়া ফোনে তোলা কনটেন্টে একটা আপন আপন ভাব থাকে, যেটা অনেক ফ্যানের কাছে স্টুডিও প্রোডাকশনের চেয়েও বেশি ভালো লাগে। আসল পার্থক্য গড়ে দেয় ফোন নয়, আলো, স্থিরতা আর ফ্রেমিং।
ক্যামেরার যেসব সেটিং জেনে রাখা ভালো
- পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করো। প্রায় সবসময়ই এটার মান সামনের ক্যামেরার চেয়ে ভালো। আয়না দিয়ে বা স্ক্রিন ঘুরিয়ে ফ্রেমটা দেখে নিতে পারো।
- লেন্স পরিষ্কার করো। লেন্সে আঙুলের দাগ থাকলে যেকোনো ছবি ঝাপসা হয়ে যায়।
- ফোকাস করতে স্ক্রিনে ট্যাপ করো। যে জায়গাটা স্পষ্ট চাও সেখানে ট্যাপ করো, তারপর আঙুল সরিয়ে ব্রাইটনেস ঠিক করে নাও।
- ডিজিটাল জুম এড়িয়ে চলো। ছবি বড় করার বদলে নিজেই কাছে যাও।
- ভালো রেজোলিউশনে ভিডিও করো, তবে ফাইল কতটা জায়গা নেয় সেটাও ভেবে রেখো।
- পোর্ট্রেট মোড মাপমতো ব্যবহার করো। ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা হলে সুন্দর দেখায়, কিন্তু কখনো কখনো চুল বা কিনারা খারাপভাবে কেটে যায়।
যেসব অ্যাক্সেসরি সত্যিই কাজের
| অ্যাক্সেসরি | কী কাজে লাগে | অগ্রাধিকার |
|---|---|---|
| ফোন হোল্ডারসহ ট্রাইপড | স্থির ছবি আর হ্যান্ডস-ফ্রি | বেশি |
| ব্লুটুথ রিমোট কন্ট্রোল | ফোনে হাত না দিয়েই ছবি তোলা | মাঝারি, টাইমার দিয়েও কাজ চলে |
| রিং লাইট | রাতে বা অন্ধকার ঘরে সমান আলো | মাঝারি |
| ছোট মাইক্রোফোন | কথাওয়ালা বা ASMR ভিডিওতে ভালো অডিও | শুধু ভিডিওতে কথা বললে |
ট্রাইপড দিয়ে শুরু করো। এটা সস্তা, আর ফলাফলে অনেক পার্থক্য আনে। বাকিগুলো পরে হলেও চলবে, আগে দেখো কোন ধরনের কনটেন্ট তুমি বেশি বানাচ্ছ।
টাইমার আর বার্স্ট মোড
রিমোট কন্ট্রোল না থাকলে ৩ বা ১০ সেকেন্ডের টাইমার ব্যবহার করো। সঙ্গে বার্স্ট মোড চালাও, যেটা পরপর অনেকগুলো ছবি তোলে। তাহলে প্রতিটা পোজের কয়েকটা করে ভার্সন পাবে আর সেরাটা বেছে নিতে পারবে। ভিডিওতে যতটা লাগবে তার চেয়ে একটু লম্বা শট রেকর্ড করো, পরে কেটে নিও।
ভিডিওর সাউন্ড
কথাওয়ালা ভিডিওতে ছবির মতোই অডিও গুরুত্বপূর্ণ। এমন ঘরে রেকর্ড করো যেখানে পর্দা, কার্পেট বা বিছানার চাদর আছে, কারণ এগুলো প্রতিধ্বনি শুষে নেয়। টেলিভিশন আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বন্ধ করো, রাস্তায় যানবাহনের শব্দ থাকলে জানালা বন্ধ করো। আর সবসময় দেখে নিও যেন অন্য কারও গলা শোনা না যায়: HerFans-এ তোমার কনটেন্টে অন্য কেউ থাকতে পারবে না, আর সেটা শোনা যাওয়াও এর মধ্যে পড়ে।
তোমার ফোনের প্রাইভেসি
তোমার ফোনে ব্যক্তিগত কনটেন্ট জমা থাকবে। সেটা সুরক্ষিত রাখো:
- শুধু স্লাইড নয়, পিন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লক রাখো।
- তোমার কনটেন্টের জন্য একটা লুকানো বা সুরক্ষিত ফোল্ডার রাখো, সাধারণ গ্যালারি থেকে আলাদা।
- ক্লাউডে অটো ব্যাকআপ দেখে নাও: তোমার ছবি আপলোড হবে কি না, আর হলে কোন অ্যাকাউন্টে, সেটা ঠিক করো।
- ক্যামেরায় লোকেশন বন্ধ করে দাও, যাতে ছবিতে কোথায় তোলা হয়েছে তা সেভ না হয়।
- ফোন আনলক অবস্থায় অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিও না।
যা আছে তা দিয়েই শুরু করো
আজই একটা পরীক্ষা করে দেখো: বই দিয়ে বানানো ট্রাইপড, জানালার আলো আর টাইমার। ফলাফল দেখে অবাক হবে। আলো আরও ভালো করতে পড়ো ঘরে আলো সাজানো, আর কনটেন্ট তৈরি হয়ে গেলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ধাপে ধাপে গাইডটা অনুসরণ করো।