প্রথমে একটা সৎ কথা
কেউ তোমাকে কখনো কেউ চিনবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। যে এ কথা বলে, সে ফাঁকা বুলি বিক্রি করছে। তবে চেনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়, এতটাই যে তোমাকে চিনতে হলে কাউকে অনেক চেষ্টা করতে হবে আর ভাগ্যও খুব ভালো লাগবে। লক্ষ্য এটাই: অনেকগুলো ছোট ছোট স্তর, যা একসঙ্গে তোমাকে বেশ ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়।
HerFans যে স্তরগুলো দেয়
- তোমার আইনি নাম তোমার প্রোফাইলে কখনো দেখা যায় না। তুমি একটা শিল্পী নাম নিয়ে কাজ করো। তোমার নথিতে থাকা নাম শুধু সেই টিম দেখে, যারা তোমার ভেরিফিকেশন যাচাই করে।
- দেশ ব্লক। তুমি পুরো দেশ ব্লক করতে পারো, নিজের দেশও। ব্লক করা দেশ থেকে কেউ এলে সে তোমার প্রোফাইল, পোস্ট, স্টোরি বা মেসেজ দেখতে পায় না, আর এক্সপ্লোর বা সার্চেও তোমাকে খুঁজে পায় না। সেখানে আগে থেকে থাকা সাবস্ক্রাইবারদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।
- নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে ব্লক। কোনো অ্যাকাউন্ট অস্বস্তিতে ফেললে তুমি তাকে ব্লক করে দাও।
- প্রতিটি ফাইলে ওয়াটারমার্ক, তাতে থাকে herfans.com আর তোমার ইউজারনেম। পেইড কপিতে ক্রেতার @ইউজারও থাকে। এতে ফাঁস হওয়া কনটেন্টের উৎস খুঁজে বের করতে সুবিধা হয়।
- পেমেন্টের তথ্য আর নথি শুধু তোমার। টিমের অ্যাক্সেস থাকা সহকারীও এগুলো দেখতে পায় না।
যে স্তরগুলো তুমি নিজে দাও
- এমন একটা শিল্পী নাম, যা তোমার আসল নামের মতো নয়। তোমার মাঝের নাম নয়, পরিবারে যে ডাকনামে ডাকে সেটাও নয়, জন্মতারিখও নয়। কিছু ধারণা পাবে তোমার আসল নাম, লুকানো পাতায়।
- শুধু এই কাজের জন্য আলাদা ইমেইল আর ফোন নম্বর। বিস্তারিত আছে আলাদা ইমেইল ও ফোন পাতায়।
- ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে খেয়াল রাখা। জানালা, ছবির ফ্রেম, ইউনিফর্ম, চিঠিপত্র। দেখো ব্যাকগ্রাউন্ডের খুঁটিনাটি।
- ক্যামেরার লোকেশন বন্ধ রাখা। ছবিতে স্থানাঙ্ক সংরক্ষিত থাকতে পারে। আরও জানবে ছবির মেটাডেটা পাতায়।
- মুখ দেখাবে কি না, সেটা ঠিক করা। HerFans-এ মুখ না দেখিয়েও কাজ করা যায়। কিছু আইডিয়া পাবে মুখ না দেখানোর আইডিয়া পাতায়।
- তোমার আলাদা বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা ভাবা। খুব চোখে পড়ার মতো ট্যাটু, জন্মদাগ, বা সবসময় একইভাবে সাজানো নখ। গোপন থাকতে চাইলে সেগুলো ঢেকে দাও বা ফ্রেমের বাইরে রাখো।
সবচেয়ে সাধারণ দুর্বল জায়গা: কণ্ঠস্বর আর রুটিন
অনেক ক্রিয়েটর মুখের দিকে খেয়াল রাখে, কিন্তু কণ্ঠস্বরের কথা ভুলে যায়। তোমার চেনা কেউ যদি তোমার অডিও শোনে, সঙ্গে সঙ্গে চিনে ফেলবে। গোপনীয়তা তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলে অডিও কম ব্যবহার করো, বা শুধু বিশ্বস্ত সাবস্ক্রাইবারদের জন্য রাখো। রুটিনের ক্ষেত্রেও একই কথা: যদি বলো আজ তোমার পাড়ার অমুক ক্যাফেতে গিয়েছিলে, তাহলে একটা সূত্র দিয়ে দিলে। আসল জায়গা বা সময় শেয়ার কোরো না।
আমাদের কাছে যে তথ্য থাকে, আর কেন
তুমি প্রাপ্তবয়স্ক এবং তুমি যে পরিচয় দিচ্ছ সেটাই তোমার আসল পরিচয়, তা যাচাই করতে আমাদের তোমার নথি আর ভেরিফিকেশনের ছবি লাগে। এই ফাইলগুলো আলাদা করে সুরক্ষিত স্টোরেজে রাখা হয়, কখনো পাবলিক ডিস্কে বা ছবি বিতরণের নেটওয়ার্কে নয়। শুধু যাচাইকারী টিম এগুলো দেখে। বিস্তারিত আছে তোমার ভেরিফিকেশন তথ্যের সুরক্ষা পাতায়।
আশপাশের মানুষের কাছ থেকে গোপনীয়তা
অচেনা মানুষের কাছ থেকে গোপন থাকা এক ব্যাপার, আর পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে গোপন থাকা আরেক ব্যাপার। সেখানে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় শেয়ার করা ডিভাইসে কোনো চিহ্ন না রাখা, আর কেউ জিজ্ঞেস করলে কী বলবে তা আগে থেকে ঠিক করে রাখা। পড়ে নাও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে গোপনীয়তা।
এই স্তরগুলো মিলিয়ে অনেক ক্রিয়েটর নিশ্চিন্তে কাজ করছে। গোপনীয়তা রেখে শুরু করতে চাইলে নতুন একটা ইমেইল আর ভেবেচিন্তে বানানো একটা শিল্পী নাম দিয়ে তোমার অ্যাকাউন্ট খোলো।